ব্যবহৃত ইলেকট্রিক স্কুটার ভালো দামে পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু কেনার দামই একমাত্র বিষয় নয়। ব্যাটারির অবস্থা, আইনি কাগজ, সার্ভিস ইতিহাস ও যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা প্রকৃত খরচ অনেক বদলে দিতে পারে।

দিনের আলোতে স্কুটার পরীক্ষা করুন, টেস্টের জন্য যথেষ্ট সময় রাখুন এবং সম্ভব হলে যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক সমস্যা বোঝেন এমন কাউকে সঙ্গে নিন। কম দাম দেখে তাড়াহুড়ো করে হস্তান্তর করবেন না।

স্কুটার দেখার আগে তার ইতিহাস জিজ্ঞেস করুন

  • মালিক কেন বিক্রি করছেন?
  • কতদিন ব্যবহার করেছেন এবং কোথায় রেখেছেন?
  • কত দূর চালানো হয়েছে এবং কীভাবে চার্জ করা হয়েছে?
  • দুর্ঘটনা, বন্যা বা অতিরিক্ত বৃষ্টির সংস্পর্শে এসেছিল?
  • কোন যন্ত্রাংশ, টায়ার, ব্রেক বা ব্যাটারির কাজ হয়েছে?
  • ইনভয়েস, রেজিস্ট্রেশন ও ওয়ারেন্টির ইতিহাস আছে?

উত্তরগুলো স্কুটারের বাস্তব অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। পরিষ্কার বডি মানেই ব্যাটারি ভালো নয়, আবার কয়েকটি আঁচড় মানেই স্কুটার অনিরাপদ নয়।

পরিচয় ও কাগজপত্র মিলিয়ে নিন

ফ্রেম বা চেসিস নম্বর, মডেল, রং এবং ব্যাটারি বা মোটরের তথ্য ইনভয়েস ও রেজিস্ট্রেশন কাগজের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। মূল ক্রয় ইনভয়েস, বিক্রেতার পরিচয়, সার্ভিস রেকর্ড ও ওয়ারেন্টি ট্রান্সফারের তথ্য চান। আমদানি করা হলে আমদানি ও বিক্রির কাগজের পথ জিজ্ঞেস করুন।

ফ্রেম নম্বর বদলানো বা অনুপস্থিত, কাগজে অসঙ্গতি, মালিকানা বদলি বাকি বা “পরে রেজিস্ট্রেশন ঠিক হয়ে যাবে”—এমন স্কুটার কিনবেন না। টাকা দেওয়ার আগে কাগজ যাচাই শেষ করুন।

ব্যাটারি না খুলে পরীক্ষা করুন

ফোলা, ফাটল, লিক, মরিচা, পানির দাগ, অস্বাভাবিক গন্ধ, ঢিলা মাউন্টিং বা ক্ষতিগ্রস্ত কেসিং দেখুন। ব্যাটারির কেমিস্ট্রি, নামমাত্র ভোল্টেজ, ক্যাপাসিটি, সিরিয়াল, বয়স ও লিখিত ওয়ারেন্টি জিজ্ঞেস করুন। “নতুনের মতো রেঞ্জ” বলা ব্যাটারি স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিকল্প নয়।

শুরুতে যথেষ্ট চার্জ রেখে স্কুটার পরীক্ষা করুন। শুরু ও শেষের চার্জ, রাস্তা, ওজন ও দূরত্ব লিখুন। ছোট টেস্টে সম্পূর্ণ ক্যাপাসিটি প্রমাণ হয় না, তবে হঠাৎ চার্জ কমা, বন্ধ হয়ে যাওয়া, ত্রুটি কোড বা অস্বাভাবিক গরম হলে পরীক্ষা থামান।

অজানা সেল দিয়ে রিবিল্ট, অনুমোদনহীন চার্জারের সঙ্গে ব্যবহৃত বা নথি ছাড়া পরিবর্তিত ব্যাটারি গ্রহণ করবেন না। ব্যাটারি ফুলে গেলে, ভিজে গেলে, ধোঁয়া হলে বা খুব গরম হলে চার্জ বা অযথা পরিবহন করবেন না।

চার্জার ও চার্জিং সংযোগ পরীক্ষা

  • চার্জারটি এই স্কুটারের কি না এবং আউটপুট ব্যাটারির সঙ্গে মেলে কি না দেখুন।
  • কেবল, প্লাগ, কেসিং ও কানেক্টরে মেরামতের দাগ, গরমের দাগ বা খোলা তার আছে কি না দেখুন।
  • বিক্রেতাকে স্বাভাবিক চার্জিং ও ইন্ডিকেটর দেখাতে বলুন।
  • সকেট বা কানেক্টর অস্বাভাবিক গরম হয় কি না দেখুন।
  • প্লাগ মিলে গেলেই অন্য চার্জার কিনবেন না।

চাকা ও ব্রেক পরীক্ষা

টায়ারের বয়স, ট্রেড, ফাটল, চাপ ও অসম ক্ষয় দেখুন। প্রতিটি চাকা নাড়িয়ে বেয়ারিংয়ের শব্দ, ঢিলাভাব বা ঘষা আছে কি না বোঝার চেষ্টা করুন। খোলা নিরাপদ জায়গায় কম গতিতে দুই ব্রেক পরীক্ষা করুন। স্কুটার যেন অনুমানযোগ্যভাবে থামে, একদিকে টানে না, ঘষার শব্দ না করে এবং অতিরিক্ত জোরে লিভার ধরতে না হয়।

ফর্ক, হ্যান্ডেলবার, স্টেম, সুইংআর্ম, স্ট্যান্ড, ফাস্টেনার ও বডি মাউন্টে ঢিলাভাব বা আঘাতের দাগ দেখুন। হ্যান্ডেলবার ধীরে ঘুরিয়ে তারে টান বা অস্বাভাবিক নড়াচড়া শুনুন। বডি ঠিক থাকলেও আগের দুর্ঘটনায় অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট হতে পারে।

কন্ট্রোল ও বৈদ্যুতিক আচরণ পরীক্ষা

  • ডিসপ্লে, চাবি বা স্টার্ট সিস্টেম, লাইট, ইন্ডিকেটর, হর্ন ও ব্রেক কাট-অফ পরীক্ষা করুন।
  • শুরু ও ত্বরণের সময় সতর্কতা কোড দেখুন।
  • ধীরে ত্বরণ দিয়ে বিভিন্ন গতিতে মসৃণতা দেখুন।
  • মোটরে ঘষার শব্দ, কন্ট্রোলারে অস্বাভাবিক শব্দ, কম্পন বা মাঝে মাঝে পাওয়ার কাটা আছে কি না শুনুন।
  • থ্রটল ঠিকমতো ফিরে আসে এবং প্রয়োজনে স্কুটার থামে কি না দেখুন।

জনসাধারণের রাস্তায় সর্বোচ্চ গতি পরীক্ষা করবেন না। কম গতির নিয়ন্ত্রিত টেস্টেই অনেক ত্রুটি ধরা যায়।

প্রকৃত কেনার খরচ হিসাব করুন

সম্ভাব্য খরচ প্রশ্ন
ব্যাটারি স্বাস্থ্য নথিবদ্ধ আছে? যোগ্য রিপ্লেসমেন্টের খরচ কত?
ক্ষয়যোগ্য অংশ টায়ার, টিউব, প্যাড, কেবল বা বেয়ারিং এখনই বদলাতে হবে?
কাগজপত্র মালিকানা বদলি, রেজিস্ট্রেশন, কর বা সরকারি খরচ বাকি?
চার্জার ও যন্ত্রাংশ সঠিক চার্জার ও মডেল-উপযোগী অংশ পাওয়া যায়?
সার্ভিস এই মডেল পরীক্ষা ও মেরামত করতে স্থানীয় টেকনিশিয়ান আছেন?

পরিদর্শনের ফলের ভিত্তিতে স্বচ্ছভাবে দরদাম করুন। স্কুটারের অবস্থা, চার্জার, আনুষঙ্গিক জিনিস, বাকি কাজ ও হস্তান্তরের তারিখ লিখিত করুন।

ঝুঁকি পরিষ্কার না হলে সরে আসুন

  • বিক্রেতা ঠান্ডা অবস্থায় চালু বা অর্থপূর্ণ টেস্ট করতে দেন না।
  • ফ্রেম নম্বর ও কাগজ মেলে না।
  • ব্যাটারি ফোলা, ভেজা, লিক, ধোঁয়াযুক্ত বা অস্বাভাবিক গরম।
  • চার্জার নেই, অনিরাপদ বা ভুল মডেলের।
  • মেরামতের ইতিহাস বা ব্যাটারির উৎস জানা নেই।
  • রেজিস্ট্রেশন এড়ানো বা বদলানো কাগজের ওপর চুক্তি নির্ভর করছে।

হস্তান্তরের চেকলিস্ট

  1. ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় এবং পেমেন্টের শর্ত লিখুন।
  2. ফ্রেম, মোটর, ব্যাটারি ও চার্জারের সিরিয়াল লিখে রাখুন।
  3. ইনভয়েস, রেজিস্ট্রেশন কাগজ, চাবি, চার্জার ও আনুষঙ্গিক জিনিস নিন।
  4. হস্তান্তরের সময় স্কুটারের অবস্থা ও ওডোমিটারের ছবি তুলুন।
  5. মালিকানা বদলি ও সার্ভিস যোগাযোগের পদ্ধতি নিশ্চিত করুন।
  6. ম্যানুয়াল দেখে নিরাপদে চার্জ ও হালকা টেস্ট দিয়ে শুরু করুন।

সবচেয়ে সস্তা ব্যবহৃত স্কুটার সেটি নয় যার স্টিকার দাম কম; সেটি হলো যার ব্যাটারি, কাগজ, সার্ভিসের পথ ও তাৎক্ষণিক মেরামত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা আছে।

সারকথা

পরিচয়, কাগজপত্র, ব্যাটারির লক্ষণ, চার্জার, ব্রেক, টায়ার, কন্ট্রোল ও যন্ত্রাংশের সাপোর্ট যাচাই না করে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক স্কুটার কিনবেন না। সঠিক পরিদর্শনের সুযোগ না দিলে বা ইতিহাসে অসঙ্গতি থাকলে চুক্তি ছেড়ে দিন। পরে অজানা ব্যাটারি, অনিরাপদ মেরামত বা কাগজের সমস্যার চেয়ে সতর্ক কেনা কম খরচের।