ছোট একটি টেস্ট রাইড করা উপকারী, কিন্তু শুধু সেটি দেখে ইলেকট্রিক স্কুটার বিচার করা যথেষ্ট নয়। বুকিংয়ের টাকা দেওয়ার আগে স্কুটার, চার্জার, ব্যাটারির তথ্য, কাগজপত্র এবং সার্ভিস সহায়তা শান্তভাবে ও একই পদ্ধতিতে পরীক্ষা করুন।
আপনি যে প্রতিটি স্কুটার বিবেচনা করছেন, তার জন্য এই চেকলিস্ট ব্যবহার করুন। গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর না পেলে অনুমান না করে সেটিকে অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে লিখে রাখুন।
পরীক্ষা শুরুর আগে
- দিনের আলোতে এবং সমতল জায়গায় স্কুটার পরীক্ষা করুন।
- শোরুমের নমুনা নয়, আপনি যে নির্দিষ্ট স্কুটারটি পাবেন সেটি দেখতে চান।
- ফ্রেম নম্বর, ব্যাটারি ও চার্জারের লেবেল এবং অন্তর্ভুক্ত সরঞ্জামের ছবি রাখুন।
- গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো কোটেশন, ইনভয়েস বা ওয়ারেন্টি কাগজে লিখিত নিন।
১৫ দফা পরীক্ষা
১. ফ্রেম ও বডি
ফ্রেম, ফর্ক, ফ্লোরবোর্ড এবং সংযোগস্থলে ফাটল, বাঁক, নতুন রং বা অসমান ফাঁক আছে কি না দেখুন। স্ট্যান্ড নিরাপদে খোলে ও বন্ধ হয় কি না পরীক্ষা করুন। বডি প্যানেল হালকা চাপলে অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া উচিত নয়।
২. স্টিয়ারিং ও অ্যালাইনমেন্ট
হ্যান্ডেলবার দুই দিকে ঘুরিয়ে দেখুন। শক্ত অংশ, ঘষার শব্দ বা তারে অতিরিক্ত টান থাকা উচিত নয়। সামনে থেকে দেখলে হ্যান্ডেলবার, ফর্ক ও সামনের চাকা একই লাইনে থাকার কথা।
৩. ব্রেক
স্কুটার স্থির রেখে প্রতিটি ব্রেক আলাদাভাবে চাপুন। লিভার শক্ত অনুভূত হবে এবং ছেড়ে দিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। ধীরে টেস্ট রাইডের সময় স্কুটার একদিকে টেনে নেওয়া বা অস্বাভাবিক শব্দ করা উচিত নয়।
৪. টায়ার ও চাকা
টায়ারের ট্রেড, সাইডওয়াল, ভালভ এবং রিম দেখুন। কাটা, ফোলা অংশ, দৃশ্যমান ক্ষতি বা জোরে ধাক্কার চিহ্ন খুঁজুন। টায়ার, টিউব বা পাংচার সার্ভিসের সহায়তা আছে কি না জিজ্ঞেস করুন।
৫. লাইট, ইন্ডিকেটর ও হর্ন
হেডলাইট, টেইললাইট, ব্রেকলাইট, ইন্ডিকেটর, হর্ন ও ড্যাশবোর্ড পরীক্ষা করুন। স্বাভাবিক চালানোর অবস্থান থেকে নিয়ন্ত্রণগুলো সহজে ব্যবহার করা যায় কি না দেখুন।
৬. ব্যাটারির পরিচয় ও অবস্থা
ব্যাটারির কেমিস্ট্রি, ভোল্টেজ, ধারণক্ষমতা, সিরিয়াল নম্বর এবং ওয়ারেন্টির মেয়াদ লিখিতভাবে নিন। ব্যাটারির লেবেল যেন লিখিত স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মেলে। ফুলে যাওয়া, ফাটল, মরিচা, ঢিলা সংযোগ বা পানি ঢোকার চিহ্ন থাকলে সতর্ক হন।
৭. চার্জার
চার্জারটি দামের মধ্যে আছে কি না, ব্যাটারির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং আসল লেবেল ও কেবলসহ দেওয়া হচ্ছে কি না নিশ্চিত করুন। প্লাগ, কেবল, কানেক্টর ও বাতাস চলাচলের অংশে ক্ষতি আছে কি না দেখুন।
৮. চার্জিং পোর্ট ও কেবল
চার্জিং পোর্টের ঢাকনা, কানেক্টর এবং আশপাশের প্যানেল দেখুন। প্লাগ জোর না করেই বসার কথা। গাড়িতে লাগানো অবস্থায় নাকি ব্যাটারি খুলে চার্জ করা যায়, এবং ম্যানুয়ালে চার্জিংয়ের ধাপ স্পষ্ট কি না জিজ্ঞেস করুন।
৯. মোটর ও থ্রটল
প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে মোটরে অস্বাভাবিক শব্দ আছে কি না দেখুন। টেস্ট রাইডে গতি বাড়ানো নিয়ন্ত্রিত হওয়া এবং থ্রটল ছেড়ে দিলে মসৃণভাবে ফিরে আসা উচিত।
১০. ডিসপ্লে ও নিয়ন্ত্রণ
ডিসপ্লেতে গতি, ব্যাটারির তথ্য এবং রাইডিং মোড ঠিকভাবে দেখা যায় কি না পরীক্ষা করুন। ব্যাটারির শতাংশের হিসাব কীভাবে কাজ করে এবং চলার সময় সেটি কতটা বদলাতে পারে জিজ্ঞেস করুন।
১১. স্বাভাবিক ওজন নিয়ে টেস্ট রাইড
সম্ভব হলে আপনি যে ধরনের রাস্তায় চলেন, সেখানে পরীক্ষা করুন। কম গতিতে ভারসাম্য, মোড় নেওয়া, ব্রেক, সাসপেনশন, কম্পন, সিটের আরাম এবং যাত্রীসহ স্থিতিশীলতা দেখুন।
১২. পানি ও আবহাওয়া সুরক্ষা
বৃষ্টিতে কোন অংশ সুরক্ষিত এবং কী কী সীমাবদ্ধতা আছে জিজ্ঞেস করুন। ব্যাটারি এলাকা, চার্জিং পোর্ট ও ডিসপ্লের সিল দেখুন। ইলেকট্রিক স্কুটার পানিতে ডুবানো বা প্রেসার ওয়াশ করা নিরাপদ—এমন ধারণা করবেন না।
১৩. অন্তর্ভুক্ত সরঞ্জাম
দামের মধ্যে চার্জার, চাবি, রিমোট, টুলস, ম্যানুয়াল, স্পেয়ার পার্টস, রেজিস্ট্রেশন সহায়তা ও আনুষঙ্গিক জিনিস কী আছে লিখে নিন। ডেলিভারির আগে কোটেশনের সঙ্গে মিলিয়ে ছবি রাখুন।
১৪. ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস
ওয়ারেন্টির কাজ কে করবে, নিকটতম সার্ভিস সেন্টার কোথায়, দাবি করার পদ্ধতি কী এবং কোন অংশ বাদ আছে জিজ্ঞেস করুন। ব্যাটারি, চার্জার, কন্ট্রোলার, মোটর ও ফ্রেমের শর্ত আলাদা করে লিখিত নিন।
১৫. কাগজপত্র ও চূড়ান্ত দাম
বিক্রেতার পরিচয়, ইনভয়েস, গাড়ির পরিচয় তথ্য, ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি, পেমেন্টের ধাপ এবং বাতিলের শর্ত দেখুন। বিজ্ঞাপনের দামের সঙ্গে চূড়ান্ত দামের পার্থক্য এবং অতিরিক্ত চার্জ লিখে নিন।
বিক্রেতাকে যে প্রশ্নগুলো করবেন
- ব্যাটারির সঠিক ভোল্টেজ ও ধারণক্ষমতা কত?
- রেঞ্জ কীভাবে মাপা হয়েছে এবং কোন পরিস্থিতিতে?
- ব্যাটারি ওয়ারেন্টিতে কী কী অন্তর্ভুক্ত এবং দাবি করতে কী প্রমাণ লাগবে?
- পরে চার্জার, টায়ার, ব্রেক পার্টস ও কন্ট্রোলার কোথা থেকে পাব?
- ডেলিভারির পর কোন সার্ভিস সেন্টার স্কুটারটি দেখবে?
- লিখিত চূড়ান্ত দামের মধ্যে কোন কোন জিনিস আছে?
ভালো সিদ্ধান্ত শুধু প্রথম রাইডে স্কুটার কেমন লাগল তার ওপর নির্ভর করে না। ব্যাটারি, চার্জার, কাগজপত্র ও সার্ভিস ব্যবস্থা বিক্রেতা কতটা পরিষ্কারভাবে বোঝাতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
কখন কেনা থামিয়ে আবার যাচাই করবেন
ব্যাটারির লেবেল কোটেশনের সঙ্গে না মিললে, চার্জার সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে না হলে, ফ্রেমে আঘাতের চিহ্ন থাকলে, ওয়ারেন্টি শুধু মুখের কথায় হলে, চূড়ান্ত দাম বারবার বদলালে বা সার্ভিসের যোগাযোগ না দিলে আগে পরিষ্কার উত্তর নিন, তারপর কেনার সিদ্ধান্ত নিন।
দুই বা তিনটি স্কুটারে একই চেকলিস্ট ব্যবহার করে উত্তরগুলো একসঙ্গে রাখুন। শুধু রেঞ্জ বা মোটর পাওয়ারের বড় সংখ্যার চেয়ে লিখিত তুলনা সাধারণত বেশি কাজে দেয়।

